পথশিশু একটি বৈষম্যমূলক শব্দ

ফারুক আজিজ

পথশিশু! আমাদের সমাজে বৈষম্যমূলক শব্দের প্রথম কাতারের শব্দ। শব্দে যেমন তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়, কর্মে আরো বেশি বৈষম্যের দ্বার উন্মোচন করা হয় তাদের প্রতি।

মনে করা হয়, তাদের জন্ম কাগজ কুঁড়ানোর জন্যে, ডাস্টবিনে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট খাবারের জন্যে; রাস্তার পাশে কঠিন শানে ঘুমানোর জন্যে, ভালোবাসার ছোঁয়ার পরিবর্তে হাতের থাপ্পড় খাওয়ার জন্যে; ট্রেনে মালামাল তোলে দিয়ে দশ টাকার বিনিময়ে পাঁচ টাকা গ্রহণের জন্যে।

একটু বড় হয়ে অপরাধ জগতে জড়িত হওয়ার জন্যে, স্মাগলারদের মাদক বহনের জন্যে; ধরা পড়ে কারাগারের ডালভাত খাওয়ার জন্যে।
আরেকটু বড় হয়ে সমাজের খুনি হিসেবে পরিচিত পাওয়ার জন্যে, ভদ্র খুনিদের গোপন ভাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করার জন্যে; রাজনৈতিক মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্যে, কর্ম শেষে ভদ্র খুনিদের হাতে-ই মৃত্যু বরণ করার জন্যে; করতে-ই হয়।

সবাই তো মানুষের দুই উরুর মাঝখান থেকেই জন্মেছে; হোক পথশিশু বা ধনীর দুলাল। পথশিশু হয়ে কেউ জন্মায় নি; আমরা-ই তাদের পিঠে পথশিশুর তকমা লাগিয়ে দিয়েছি। মানুষ হয়ে সবার মতো তারাও এই পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যে তাদেরও জন্ম। কিন্তু এই চিরসত্যকে আমরা শাব্দিক ও আক্ষরিকভাবেই অস্বীকার করি।

যখন সমাজ ছেলেকে নামিদামি কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দেওয়ার চিন্তায় মগ্ন তখন কিছু মানুষ পথশিশুদের হাতে বিনামূল্যে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থ্যা করার জন্যে চিন্তায় নিমগ্ন। যখন এলিট শ্রেণী ছেলেকে ব্যয়বহুল ব্যাগে বই রাখার জন্যে শপিং মলে ঘুর ঘুর করে ঘুরে, তখন কিছু আলোকিত মানুষ পথশিশুদের বই-খাতার ব্যবস্থা করার জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে করে ঘুরে।
সমাজের নিচে পড়ে থাকা পথশিশুদের শিক্ষার জন্যে কিছু মানুষের মন বেচাইন থাকে, আল্লাহ তাদের কবুল করুক।

হয়তো তারা টিফিনে বার্গার খেতে পারবে না; কিন্তু একদিন শিক্ষিত হয়ে তারাও মানুষের হাতে শিক্ষার বার্গার তোলে দিতে পারবে।

এই রকম কিছু আলোকিত মানুষের কাজ দেখে পৃথিবীতে আরো কিছুদিন থাকতে ইচ্ছে করে।

লেখক : গবেষক ও কবি

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন