সিলেটে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা

 

চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আফনানকে (২২) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট-মহাসড়কের শেরপুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ওয়াসিমের সহপাঠীদের অভিযোগ, বাসের চালকের দুই সহযোগী ওয়াসিমকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যা করে। এই ঘটনায় সিকৃবির ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর থেকে বিক্ষোভ করছেন। অনেকেই ছুটে গিয়ে ওসমানী হাসপাতালেও বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীদের আরেকটি গ্রুপ কদমতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে বিক্ষোভ করলে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে সিকৃবির প্রক্টর, শিক্ষক, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসলে রাত সোয়া ৯টায় পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী ছিল বাসটি। এটি উদার পরিবহনের বাস। যার নম্বর (ঢাকা মেট্র ভ-১৪-১২৮০)। বাসটি ওয়াসিমকে ​চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
দেশে এমন ঘটনা বাড়ার মূল কারণ হলো, মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা মহা অপরাধ। ইসলাম কখনোই হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। পৃথিবীতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হইয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)

শান্তির ধর্ম ইসলামে সব ধরনের অন্যায় হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আজ এই পবিত্র দিনে (বিদায় হজের দিন), পবিত্র মাসে এবং পবিত্র (মক্কা) শহরে তোমাদের জন্য যেমন যুদ্ধবিগ্রহ ও অপকর্ম করা অবৈধ, তেমনিভাবে তোমাদের জান ও মাল বিনষ্ট করাও অবৈধ।’ (বুখারি, হাদিস : ১৭৪১)

অন্যদিকে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সহপাঠীর যে অধিকার ইসলাম দান করেছে, সমাজজীবনে তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন ঘটলে পৃথিবী একখণ্ড বেহেশতে পরিণত হতো। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তোমার পিতামাতারও কৃতজ্ঞতা আদায় করো।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১২)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন