সাদপন্থী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে বেফাকের আহ্বান

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ অধীনে কওমি মাদরাসা চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা গত ৮ এপ্রিল শুরু হয়েঝে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

এ পরীক্ষায় ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের বিতর্কিত মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী মাদরাসাগুলোর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে আবারও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’।

গত ৯ এপ্রিল গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাওলানা সাদের পক্ষপাতকারী ছয়টি মাদরাসার নাম উল্লেখ করে বেফাক জানায়, সাদপন্থী ৬টি মাদরাসার ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১১ জন পরীক্ষার্থী ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তাকমিল জামাতের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ৬৬ পরীক্ষার্থী এ দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরবর্তী পরীক্ষসমূহে অংশগ্রহণের জন্য বেফাক নির্দেশ প্রদান করে। পাশাপাশি ৮ এপ্রিল তারিখে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জন্য চলমান নির্ধারিত পরীক্ষাসূচী শেষে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানাায় বেফাক।

বিজ্ঞপিতে বলা হয়, এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাচ্ছে যে, গত ৭/৪/২০১৯ ইং তারিখ বিকাল ৪:৪০ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ-এর রিট পিটিশন নং- ৩৭৪৮/২০১৯ এ গত ৪/৪/২০১৯ তারিখের প্রদত্ত আদেশ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ(বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড) এর উপর জারী হয়।

ছয়টি মাদরাসার নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়েরকৃত উপরোক্ত রীট পিটিশনের বর্ণিত ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর বরাবরে ৮/৪/২০১৯ ইং তারিখ হতে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় অংশ গ্রহনে প্রবেশপত্র ইসু করতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ নির্দেশ প্রদান করেন। উপরিবর্ণিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিষয়টি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ মাধ্যমে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ গত ৭/৪/২০১৯ ইং তারিখে সন্ধ্যায় মৌখিকভাবে অবগত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত মাদরাসাগুলো-  রাজধানীর বারিধারর আল মাদরাসাতুল মঈনুল ইসলাম, সাভারের মারকাজুল উলূম আশ শরীয়াহ, নন্দিপাড়ার মাদরাসাতুস সুফফা আল ইসলামিয়া, চাঁদপুরের জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম, কিশোরগঞ্জ গাইটাইলের মাদরাসায়ে রাহমানিয়া, ময়মনসিংহ ভালুকার জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত মহিলা মাদরাসা।

আরও বলা হয়, উল্লেখিত ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী যথাযত প্রবেশ পত্র ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তথাপিও কোন কারণে কোন পরীক্ষার্থী প্রবেশ পত্র না পেয়ে থাকলে তাদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে গত ৭/৪/২০১৯ ইং তারিখে অনলাইন পত্রিকা, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও ই-মেইল মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ/জানানো হয়।

অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ৮/৪/২০১৯ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উল্লেখিত ছয়টি মাদ্রাসার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১১ জন অংশ গ্রহণ করেছে মর্মে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র হতে নিশ্চিত করা হয়। যে (১৭৭-১১১)= ৬৬ জন পরীক্ষার্থী ৮/৪/২০১৯ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদেরকে রেজিষ্ট্রেশন কার্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরবর্তী পরীক্ষসমূহে অংশ গ্রহণের জন্য এতদ্বারা নির্দেশ প্রদান করা গেল।

পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বেফাক জানায়, ৮/৪/২০১৯ তারিখে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জন্য চলমান নির্ধারিত পরীক্ষাসূচী শেষে অংশ গ্রহণে সুযোগ দেয়া হবে ইন্শা-আল্লাহ। তদ্রপ তারিখ দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ (রোববার) ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের বিতর্কিত মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার পক্ষপাত করার অভিযোগে সাদপন্থী মাদরাসাগুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

হাইয়ার এমন সিদ্ধান্তে দেশের কয়েকটি মাদরাসার প্রায় ১৭৭ জন দাওরা হাদিসের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।  এই পরিপ্রেক্ষিতে বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া থেকে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন সাদপন্থীরা।

সাদপন্থীদের ৬টি কওমি মাদরাসার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস বাদল এর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার রিটের শুনানি শেষে সাদপন্থী মাদরাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে বলে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশনে ১৯ সেপ্টেম্বর ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুইবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন