পহেলা বৈশাখের প্রচলিত উদযাপন; যা বললেন গবেষক আলেমরা

বাংলাদেশে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে পালিত হয় ‘পহেলা বৈশাখ’। এ উপলক্ষে থাকে রাষ্ট্রীয় ছুটিও। উদযাপিত হয় নানা আয়োজন। এসব আয়োজনের অনেকাংশে জড়িয়ে থাকে শিরকি প্রলেপ। যা হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে বিবেচনা করেন ইতিহাসবিদগণ। ত্রিশ বছর আগে বাঙ্গালি সমাজে যেভাবে পহেলা বৈশাখ পালিত হত, তারপর তাতে এমন কিছু উদ্ভট বিষয় যুক্ত হয়ে চলেছে, যাতে একজন মুসলমানের ঈমান থাকা নিয়ে সন্দেহ ব্যক্ত করেন দেশের আলেমসমাজ।

অপরদিকে পহেলা বৈশাখের প্রচলিত উদযাপনকে এক শ্রেণির মানুষ ‘আবহমানকালের বাঙ্গালি সংস্কৃতি’ বলে চালিয়ে দিচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজে। পহেলা বৈশাখের প্রচলিত উদযাপন আসলেই কি তা বাঙ্গালি সংস্কৃতি এবং এর সাথে ইসলামের কী আপত্তি রয়েছে এসব বিষয়ে ডেইলি ইসলাম’র সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের ইতিহাস গবেষক, লেখক, সম্পাদক, ইসলামি চিন্তাবিদ তিন তরুণ আলেম। তাঁদের বক্তব্যগুলো সাজিয়েছেন- হাসান আল মাহমুদ

প্রচলিত পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালি সংস্কৃতি নয়

  • লাবীব আব্দুল্লাহ লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ,পরিচালক, ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট

সলামের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে৷ রয়েছে তাহযিব তামাদ্দুন৷ রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ঐতিহ্য৷ তওহিদে বিশ্বাসীরা শিরকের সঙ্গে আপোষ করে না৷ আল্লাহ শিরককে ক্ষমা করেন না৷
তওহিদে বিশ্বাসী যারা তাদের সংস্কৃতি চর্চা, যাপিত জীবনে উৎসব পালনে সর্তক থাকবে৷ স্বকীয়তা বজায় রাখবে৷ আমি মুসলিম এই চেতনা বুকে রেখে হবে সকল সাংস্ক়তি চর্চা৷ অনুশীলন৷ পান্থা ইলিশ খাবে তবে, বাণিজ্য মেলাও করবে তবে মুসলিম হিসেবে ইসলামের বিধান স্মরণ রেখে৷ পহেলা বৈশাখে সব নাজায়েয নয়, সব জাযেজও না৷
যা মুবাহ তা করবে৷ যা অপসংস্কৃতি তা বর্জন করবে৷
যা বিজাতীয় সংস্কৃতি তা পরিত্যাগ করবে৷ পহেলা বৈশাখে যা হচ্ছে তাসব বাঙ্গালি সংস্কৃতি নয়৷ শহুরে জীবনে একদিনের জন্য গ্রামীণ সংস্কৃতি এলেও তাতে পশ্চিমা সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে৷ তবে সব হারাম বলা বা সব হালাল বলার আগে ইসলামী সংস্কৃতির সীমানা নিয়ে জানা থাকতে হবে৷ সবার কল্যাণ কামনা প্রতিদিন৷ বাঙালির সুখ হোক৷ উন্নত হোক কৃষি ও কৃষ্টি৷
তবে শুধু মুখোশে নয়, মুখে মুখে হাসি থাকুক৷ এই হাসি দিতে পারেন এই সুখ দিতে পারেন রব্বে জুল জালাল৷ একমাত্র আল্লাহ৷

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস বিকৃতি প্রচলিত উদযাপন

  • আলী হাসান তৈয়ব লেখক, গবেষক, খতিব, সাব-এডিটর, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ

বাংলা সন এসেছে হিজরি সাল থেকে। এর প্রবর্তক বাদশাহ আকবর। আবিস্কারক ফতেহ উল্লাহ। বঙ্গাব্দকে বলা হত ফসলি সন। ফসলের খাজনা আদায়ের সুবিধার্থেই এর উদ্ভব। খাজনাদাতা কৃষকরা সাশ্রয় ও স্বাস্থ্যের জন্য পান্তা খেতেন। ব্যবসায়ীরা হিসেবের হালনাগাদ করতেন নতুন বছরের সূচনায়। হালখাতার অংশ হিসেবে দোয়া ও মিষ্টি মুখ করাতেন গ্রাহকদের। এইতো ইতিহাস। এটিই তো গোড়ার কথা। পহেলা বৈশাখের উৎসব করতে হলে, জাতিকে এক কাতারে আনতে এসব বা এধরনের কিছু দিয়েই তো হতে পারত। তাহলে কেউ আপত্তি করত না। কিন্তু এই তথ্য বিপ্লবের যুগে ইতিহাস ভুলিয়ে রেখে পহেলা বৈশাখের নামে আমাদের বিজাতীয় অনেক কিছু গেলানো হচ্ছে। ইসলাম সবচেয়ে বেশি কঠোর যে শিরক ও মুশরিকদের আদর্শ গ্রহণের বিরুদ্ধে তা-ই গিলতে বাধ্য করা হচ্ছে ভিন্ন নামে। আমরা জেনে বুঝে সেই ইতিহাস বিকৃতিকে মেনে নেই কিভাবে? আমি ভালো মুসলিম তো বটেই, ভালো বাঙালী হলেও তো চারুকলা-ছায়ানটের বৈশাখি আয়োজন মেনে নিতে পারি না। তিরিশ বছর আগে চালু করা জিনিসকে তারা ঐতিহ্য আর আবহমান বললেই তো মানতে পারি না। এদেশে এখনও ইতিহাসের লোক আছেন, তারা কি আমাদের আপত্তিগুলোতে একমত না হয়ে পারবেন? অনেক বাম ইতিহাসসচেতন ব্যক্তিও একমত প্রকাশ করতেন, শুধু তাদের আদর্শিক শত্রু ইসলামপন্থীদের সঙ্গে মিলে যাবে বলে কথা বলেন না। এই সুযোগে এক অসাধু মহল মঙ্গলযাত্রা, মুখোশ আর দেবী লক্ষ্মীর বাহন দিয়ে মঙ্গল আহ্বান শেখাচ্ছে বাঙালী মুসলমানকে। বাঙালী মুসলমান তো রোজ পাঁচবার আল্লাহর ঘরে মঙ্গলের যাত্রা করে। প্রতিটি রাকাতে সমূহ কল্যাণ আর মঙ্গল প্রার্থনা করে। তিরিশ লাখ মা-বোনের রক্তে কেনা স্বাধীনতা অর্জনের পর ইতিহাসবিকৃতির এমন প্রয়াস অবিশ্বাস্য। দুঃখজনক। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের উচিত, হাজার বছরের ইতিহাস বিকৃতির এই হীন আয়োজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। জাতিকে আরোপিত উৎসব অনুষঙ্গে না টেনে স্বতঃস্ফূর্ত ও সাদা মনের আনন্দে উদ্বুদ্ধ করা।

অশ্লীল সংস্কৃতি কখনোই এদেশের আপামর জনতার সংস্কৃতি হতে পারে না

  • আফজাল হুসাইন শিক্ষাবিদ, লেখক, সম্পাদক, পরিচালক, ক্যারিয়ার বাংলাদেশ   

হেলা বৈশাখ লিখে সার্চ দিলাম। প্রথম আলোর একটি  লেখা দেখালো। সময় না বাড়ালে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা”। চমকে গেলাম। স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সকল উৎসব অনুষ্ঠান শেষ করার বিষয়টিও চোখে পড়ল। ভালো লাগলো এতে আমাদের, যাারা অশ্লীলতা পছন্দ করি না। ভালো লাগেনি যারা অশ্লীলতার যোগানদাতা, তাদের কাছে। ফলে তারা রাগ, ক্ষোভ ও ক্রোধে ফেটে পড়েছে। আয়োজন করেছে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচির। যশোর থেকে শুরু হওযা এসব কর্মকাণ্ডের যারা মূল হোতা তারা মনে করেন এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ‍উপর কোন রকম বিধিনিষেধের বেড়াজাল থাকতে পারে না। আমরা মনে করি এসব অনুষ্ঠান কোন ধার্মিক করতে পারে না। কারণ এতে যে সকল নোংরামী হয় তা কোন ধর্মই সমর্থন করে না। গুটিকয়েক অতি আবেগী মানুষের কারণে শুরু হয়েছে এসব বাড়াবাড়ি ও নোংরামী। তারা অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তাতে কার কী হবে।
ঐ সব অনুষ্ঠান না হলেই তো ভালো। মানুষ সঠিকভাবে বাংলা তারিখ ব্যবহার করবে, হালখাতা করবে তাতো দোষের কিছু নেই। তবুও কিছু আনন্দ করতে চাইলে ইসলামী সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনই তার জন্য যথেষ্ট। অশ্লীলতামুক্ত ঈমানী চেতনাযুক্ত সুন্দর মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন শিক্ষণীয় উপভোগ্য আয়োজন তারা খুব সুন্দরভাবেই করতে পারবে।
সুতরাং তোমাদের হুমকিতে কারো কিছু যায় আসে না। সরকারকে আমরা সাহস যোগাতে চাই, আপনাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। সিংহভাগ মানুষের সেন্টিমেন্টকে মূল্যায়ন করুন। সংখ্যা লগুদের অধিকার দিন তবে সীমায থেকে। এমনভাবে যাতে অন্যদের উপর কোন রকম আঘাত না আসে।
তারপরও কেউ যদি কিছু করতে চায় সে তার নিজের ঘরে করবে। তাতে তো কারো আপত্তি নেই।
তবে মুসলমান সবসময় কুরআন-সুন্নাহ ও দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত থাকবে এটাই সাভাবিক। দেশীয় কালচারের নামে বিদেশী কিংবা অশ্লীল সংস্কৃতি কখনোই এদেশের আপামর জনতার সংস্কৃতি হতে পারে না।
কিছু মহল ব্যবসার ধান্ধায় দিবস পালনের রেওয়াজ চাঙ্গা করতে চায়। ওরা ধান্ধাবাজ, স্বার্থবাজ, ধোকাবাজ, জাতির দুশমন। ওদের থেকে সাবধান থাকাই শ্রেয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন