মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বাঙ্গালি সংস্কৃতি|| যুবায়ের আহমাদ

গেল বছর পহেলা বৈশাখের পরদিন (১৫ এপ্রিল, ২০১৮) কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট ছিল, ‘ঢাকার পয়লা যেন অষ্টমীর একডালিয়া’। এর প্রথম লাইনটি ছিল ‘কার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে! কখনও মনে হচ্ছিল কলকাতার কলেজ স্কোয়ার বা একডালিয়ার পুজো মণ্ডপ ‘ -এমন।

আনন্দবাজার পত্রিকার এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল আমাদের দেশের পহেলা বৈশাখের চিত্র। মঙ্গল শোভাযাত্রার ফলে তাদের কাছে এটাকে অষ্টমী মনে হয়েছে। এ যেন এক পুজো মন্ডপ।
মুসলমান হয়ে যে কাজটি আপনি করছেন সেটাকে কলকাতার পত্রিকা বলছে পুজা। আর আপনি সেটাকে ‘বাঙ্গালি সংস্কৃতি’ বলে বৈধ করতে চাচ্ছেন!

মঙ্গল শোভাযাত্রা, কালির মূর্তি ধারণ, ছেলেরা মেয়েদের গালে উল্কি একে দেয়া, -এগুলো এদেশের মানুষের বৈশাখের সংস্কৃতি না। বরং হালখাতা, মিষ্টিমুখ, দোয়া অনুষ্ঠান, লাঠিখেলা, নৌকা বাইচ, ঘুড়ি উড়ানো বৈশাখের অংশ হতে পারে, মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়।

১৯৮৯ সালে (২৯ বছর আগে) চালু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের মানুষের হাজার বছরের সংস্কৃতি নয়। কারণ, ৩০ বছর আগেও এর অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু এদেশের ৯০% মানুষ হাজার বছর ধরে শাওয়ালের ১ তারিখ ঈদগাহে গিয়ে আল্লাহকে সিজদা করে পরস্পর পরস্পরকে বুকে জড়িয়ে ধরে। হাজার বছর ধরে এদেশের মসজিদগুলো শবেবরাতে ভরপুর হয়, রমজান এলে গ্রামে গ্রামে তারাবির নামাজ হয়, ভোরে সাহরির জন্য ডাকাডাকি হয়। সুতরাং এগুলোই এদেশের মানুষের হাজার বছরের সংস্কৃতি।

মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের সংস্কৃতি নয়। ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিলেও এদেশের ৯০% জনগণ এটাকে নিজেদের সংস্কৃতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, দেবে না। এর প্রমাণ হলো, গেল বছর পহেলা বৈশাখের বিকেলে বাংলাট্রিবিউন এক রিপোর্টে লিখেছিল, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায় কম লোকসসমাগম’। তার মানে এদেশের মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে গ্রহণ করেনি।
ইউনেস্কো যদি হালখাতা, মিষ্টিমুখ, লাঠিখেলা বা নৌকাবাইচকে এ স্বীকৃতিটা দিত তাহলে এত প্রশ্ন থাকত না। ওয়াজ, ঈদের নামাজ কিংবা রমজানের ইফতারকে সংস্কৃতি হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা এদেশের মানুষ সাদরে গ্রহণ করত। কিন্তু তা না করে পুজার মতো আয়োজন (আনন্দবাজারের দৃষ্টিতে) মঙ্গল শোভাযাত্রাকে যখন এদেশের মানুষের ঐতিহ্য হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছে, তখনই তা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে কৌশলে পুরো ঢাকা শহরকে বৃহদাকারের পুজো মন্ডপে পরিণত করার স্বপ্ন পূরণ হতে এদেশের ১৬ কোটি মুসলমান দেবে না।

লেখক: কলামিস্ট, নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি ইসলাম

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন