‘আলেমরা এভাবে দেশপ্রেম নিয়ে গাইতে পারে!’

মাহমুদুল হাসান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশের অন্যতম এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের ইসলামী সংস্কৃতির অঙ্গণে অনন্য নাম দিশারী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ফোরামের মাসাউন নাসীদ ‘গজল সন্ধ্যা’ ১৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটালে অবস্থতি অতিথি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেফাকের সহসভাপতি কিশোরগঞ্জ আল- জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহা পরিচালক আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সুযোগ্য উত্তরসূরী রাসেল আহমেদ তুহিন।

দিশারীর পরিচালক মাওলানা শরীফ জামী এবং সুলতান আফজাল আইয়ুবির যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল মুহাম্মদুল্লাহ জামী, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল গনি ঢালি লিমন।

অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাদ আসর। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই হল রুম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শতাধিক শ্রোতা দাঁড়িয়ে থেকেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে উপস্থিত হন সভাপতি আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ, কিছু সময় প্রভু প্রেমের মজনুদের কন্ঠে গাওয়া হামদে বারী তা’য়ালা এবং নাতে রাসুল শুনে নিজেই মাইক্রোফোণ হাতে নিয়ে মঞ্চে চলে যান।

মায়াবী কন্ঠে গাইতে থাকেন উর্দু নাশীদ। অল্প পরিবেশনাতেই মুগ্ধ করেদেন দর্শক শ্রোতাদেরকে।

বাদ মাগরিব। নাশীদ প্রেমিরা বসে যান নিজ নিজ আসনে। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। ছোট ছোট বাচ্চাদের পরিবেশনা তন্ময় হয়ে শুনতে থাকেন উপস্থিত জনতা। চলমান ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে গাইতে থাকেন আসহাবউদ্দিন আল আজাদ।

অনুষ্ঠান চলতে থাকে। রাত ৮ ঘটিকায় উপস্থিত হন প্রধান অতিথি। হল রুমে প্রবেশ মাত্রই শুনতে পান সমাজের বাস্তবতা নিয়ে আমিনুল ইসলাম মামুনের কন্ঠে গাওয়া সংগীতগুলো। পরিবেশনা চলতে থাকে।

অনুষ্টনের শেষ পর্যায়ে মঞ্চে যান প্রধান অতিথি রাসেল আহমেদ তুহিন। কাঁদোকাঁদো কন্ঠে শুরু করেন তার বক্তব্য।

বক্তব্যে তিনি বলেন; আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে। আমার বুক এখনো কাঁপছে। ছেলেদের এমন ব্যতিক্রমী পরিবেশনা শুনে আমি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। আসলে আমরা দীক্ষা পাই আলেমদের থেকে। আল্লাহকে চেনার দীক্ষা। আলেমরা এভাবে দেশ প্রেম নিয়ে গাইতে পারে! সত্যি আমি মুগ্ধ হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাকে বলা হয়েছে দিশারীর অবিভাবক হতে। আমি চাই এই দিশারীর একজন সদস্য হয়ে আজীবন থাকতে।আপনারা আলেম মানুষ, আপনারা আপনাদের সাথে সদস্য করে হলে যতদিন বেঁচে আছি আমাকে রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস রাখি।

পরিশেষে দিশারীর পরিচালক মাওলানা শরীফ জামীর পরিবেশনায় এবং দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন