এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘ফণি’ হল যেভাবে

ডেইলি ইসলাম: এবারে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফণি’ (Fani)। এর নামকরণ করেছে বাংলাদেশ। তবে ঘূর্ণিঝড়টির নাম ফণি কে এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে সবার মনে।

ফণি শব্দের অর্থ সাপ বা ফণা তুলতে পারে এমন প্রাণী। সাপের মত ফণা তুলতে পারে এই অর্থে ই মূলত এ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে। ইংরেজিতে (Fani) লেখা হলেও এর উচ্চারণ ফণী।

‘কিভাবে এই নামটি এলো’ তা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগে একসময় ঝড়গুলোকে নানা নম্বর দিয়ে সনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেসব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হতো। ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেয়া, মানুষ বা নৌযানগুলোকে সতর্ক করাও কঠিন মনে হতো।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। যেমন, ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান, যাদের প্যানেলকে বলা হয় ডব্লিউএমও বা এসক্যাপ।

এ কারণে ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। সে সময় আটটি দেশ মিলে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে। সেসব ঝড়ের নামের মধ্যে এখন ‘ফণি’ ঝড়কে বাদ দিলে আর সাতটি নাম বাকী রয়েছে।

তবে ফণি নামটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দেয়া চারটি নামের তালিকা পূর্ণ হলো। এরপরে আরো সাতটি ঝড়ের পর আবার চারটি ঝড়ের জন্য নাম দেবে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা নামগুলো ছিল হেলেন, চাপালা ও অক্ষি।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঝড়ের নামকরণে মেয়েদের নামের প্রাধান্য দেখা গেছে। ভারতের প্রস্তাব এরপরের ঝড়ের নাম হবে ভায়ু। তারপরে আরো ছয়টি ঝড়ের জন্য এখনো নাম তালিকায় রয়েছে। এই নামগুলো শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা আবার বৈঠকে বসে নতুন নামকরণ করবে।

বিবিসি ওই প্রতিবেদনে আরো জানায়, ভারতীয় উপমহাদেশে এই নামকরণ খুব বেশি পুরোনো না হলেও অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ করা হতো।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন