দেশে দেশে রমজানবরণ

পার্থিব জীবনের কল্যাণ আর পরকালীন জীবনের মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান। বিগত দিনের পাপ মার্জনা এবং মহান প্রভু আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পায় আল্লাহর অনুগত বান্দারা। তাই রমজানের আগমনে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম বিশ্বে। সারা বিশ্বের মুসলিমরা রমজানের আগেই রমজানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এবং রমজানকে স্বাগত জানায় নানাভাবে। লিখেছেন সাখাওয়াত উল্লাহ

সৌদি আরব

ইসলামের পবিত্র ভূমি হিসেবে সৌদি আরবে রমজানের আগমনে আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হয়। মুসলিমরা রমজানের আগ থেকে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। রমজানের এক সপ্তাহ আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে চাঁদ দেখার সম্ভাব্য সময় বলে দেওয়া হয়। সৌদি নাগরিকরা দল বেঁধে বাড়ির ছাদে বা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চাঁদ দেখে।

রমজানের আগমনের পর মুসলিমরা পরস্পরকে ‘রমজান মুবারক’, ‘আশ শাহরু আলাইকুম মোবারক’ ইত্যাদি বাক্যে অভিনন্দন জানায়। মক্কা-মদিনার অধিবাসীরা ওমরাহ ও ইতিকাফের উদ্দেশ্যে আগত মুসল্লিদেরও স্বাগত জানায় এবং তাদের আপ্যায়ন করে।

মিসর

মিসরবাসীর রমজান উদ্‌যাপন যেন অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। রমজানের আগমনে তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিমাণ অন্য যেকোনো আরবদেশের তুলনায় বেশি। মিসরীয়রাও দল বেঁধে চাঁদ দেখে। ফানুস উড়িয়ে রমজানের চাঁদকে স্বাগত জানায়, সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয় তোপধ্বনি। শহরের রাস্তায় আলোকসজ্জা করা হয়। হাসিমুখে পরস্পরকে অভিনন্দন জানায় মিসরীয়রা। রমজানে সুন্দর তিলাওয়াত মিসরীয়দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রমজানের প্রথম রাত থেকে মিসরের ঘরে ঘরে বিখ্যাত কারীদের তিলাওয়াত বাজানো হয়।

তুরস্ক

তুর্কি মুসলিমদের কাছে রমজান শুধু ইবাদত ও আনুগত্যের মাস নয়; বরং মুসলিম সংস্কৃতির বার্তাবাহক। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রমজানকে স্বাগত ও বিদায় জানায় তুর্কি মুসলিমরা; যেমন—আগমনী সংগীত গেয়ে তারা রমজানকে স্বাগত জানায়, মানুষের মাঝে সুগন্ধি বিতরণ করে। ইস্তাম্বুল মসজিদে সংরক্ষিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিদর্শনসমূহ জনগণকে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মসজিদে আলোকসজ্জা করা হয়। রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মসজিদে ব্যানার টানানো হয়।

ইন্দোনেশিয়া

রমজানের জন্য আগে থেকেই অপেক্ষা করে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমরা। তারা ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও পরিমিত আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায়। তারা গুরুত্বের সঙ্গে রমজানের ঘোষণা ও আগমনী বার্তা প্রচার করে। শিশুরা রাস্তায় রাস্তায় রঙিন মশাল ও ফানুস জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। রমজানকে স্বাগত জানাতে তোপধ্বনি দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে।

ইউরোপ-আমেরিকা

ইউরোপ-আমেরিকার মুসলিমরাও পবিত্র রমজানের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে; তবে তাদের প্রস্তুতি মুসলিম দেশের নাগরিকদের মতো নয়। তারা সমবেত হয়ে চাঁদ দেখা, সমবেত হয়ে পরস্পরকে অভিনন্দন জানানো বা রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশের সুযোগ পায় না ঠিক, কিন্তু রমজানের রোজা ও তারাবি কিভাবে আদায় করা সম্ভব হবে, সেই প্রস্তুতি তাদের আগে থেকেই নিতে হয়। রমজানের আগমনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পরকে অভিনন্দন জানায় ইউরোপ-আমেরিকার মুসলিমরা। একজন অন্যজনকে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। রমজানে ইফতার-সাহরি ও নামাজের সময়সূচি প্রচার করে। রমজানের আগে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে তারাবির নামাজের জন্য হাফেজদের নেওয়া হয় ইউরোপ-আমেরিকার মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে। আগত হাফেজ ও আলেমরা তারাবির নামাজের পাশাপাশি শিশুদের কোরআন শিক্ষা এবং বড়দের প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষা প্রদান করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন