রমজানে মুসলিম দেশগুলোতে পণ্যে মূল্যছাড়

রমজান স্রষ্টার সাধনা ও আল্লাহভীতি অর্জনের মাস। রমজানে মুসলিম উম্মাহ সিয়াম সাধনা করে এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকে। রমজানের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগি নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিময় করতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হ্রাস করা হয়। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজানে মূল্যহ্রাসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থ ও শিল্প মন্ত্রণালয় ৫০০ ভোগ্য পণ্যে মূল্যহ্রাসের নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের বেশির ভাগ সুপারমার্কেট ও শপিং মলে প্রথম রোজা থেকে শেষ রোজা পর্যন্ত আগের মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য ক্রয় করা যাবে। মন্ত্রণালয় বলছে, রমজানে প্রয়োজন এমন সব পণ্যে সরবরাহকারীরা মূল্যছাড় দেবে।

আরব আমিরাতের সারজায় রমজানে পণ্যে মূল্যছাড়ের আরো বড় ঘোষণা এসেছে। ১০ হাজার ভোগ্য পণ্য সীমিত মূল্যে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ২৫ হাজার পণ্যের মূল্য সংযোজন না নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সারজা কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ কম্পানি রমজানে ১২ হাজার পণ্যে মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। খাদ্যপণ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্য না হলে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ মূল্যছাড় দেবে তারা। তেলসমৃদ্ধ আরব দেশ কাতারে ৫০০ ভোগ্য পণ্যে রমজানে মূল্যছাড়ের ঘোষণা এসেছে। রমজানের পাঁচ দিন আগে থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে তা কিনতে পারবে ভোক্তারা।

আরব দেশগুলোর মতো এত বৃহৎ আয়তনের মূল্যছাড় না দিলেও এশিয়ার অন্যান্য মুসলিম দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেমন—মালয়েশিয়ায় ১০টি ভোগ্য পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে রয়েছে আটা, চিনি, মুরগির মাংস, মুরগির ডিম, মটরশুঁটি ও নারকেল। রমজানের পাঁচ দিন আগে থেকে রমজানের পাঁচ দিন পর পর্যন্ত এসব পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হয়।

রমজানে মুসলিম বিশ্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা এলেও তা অজানা কারণে বাস্তবায়িত হয় না। রমজানের শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। পারিবারিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নাকাল হয় রমজানে। সাধারণ মানুষ ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে বাড়তি উপার্জনের চেষ্টায় বাধ্য হয়। রমজানকে ব্যাবসায়িক সুযোগ মনে না করে মানবসেবা ও স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের চিন্তা মুখ্য হোক এই দেশে এবং মানুষ স্বস্তির সঙ্গে মনোযোগী হোক ইবাদতে—এ প্রত্যাশাই সর্বসাধারণের।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন