হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীর বাসায় বক্তাদের মিলনমেলা ও ইলমি মুজাকারা

মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী

গতকাল আলোচিত ও নন্দিত ওয়ায়েজ মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক ‘কুয়াকাটা’ সাহেবের বাসায় ওয়ায়েজদের একটি চমৎকার মিলনমেলা হয়ে গেল।

মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আজাদী ভাই সহ কয়েকজন আলোচিত ওয়ায়েজ কর্তৃক মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক সাহেবের কাছে ইফতার খাওয়ার আবদারের প্রেক্ষিতেই এই আয়োজন। মূলত কওমি ঘরানার ওয়ায়েজগণ একটু একসাথে বসা ও কথাবার্তা বলাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কারণ সারাবছর প্রোগ্রামের কারণে পারস্পরিক তেমন দেখা সাক্ষাৎ বা কথাবার্তা বলার সুযোগ হয়ে উঠে না।

মাওলানা আব্দুল বাতেন কাসেমী, মুফতী লুৎফুর রহমান ফারায়েজি, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ আজাদী, মাওলানা ইলিয়াসুর রহমান জিহাদি, মাওলানা আব্দুল খালেক শরীয়তপুরী,মাওলানা শোয়াইব আহমেদ আশ্রাফী,মাওলানা কামরুল ইসলাম আরেফী,মুফতি শামিম আল আরকাম,মুফতি নাসীরুদ্দীন আনসারি,মাওলানা রাশেদুল ইসলাম রহমতপুরী, মাওলানা ইব্রাহীম কোব্বাদি, মাওলানা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।  আমিও ছিলাম।

ইফতারের পর কিছুক্ষণ খোশগল্প হল। বর্তমান ওয়াজ ও ওয়ায়েজদের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথাবার্তা শুরু হল। একটা পর্যায়ে তা ইলমি মুজাকারা ও আত্মসমালোচনা মজলিসে রুপ নিল। সাহেবে দাওয়াত (সিদ্দিকী সাহেব) সহ উপস্থিত সবাই এতে শরিক হয়ে অন্তরের কথা তুলে ধরলেন। ওয়াজের ময়দানে করণীয়, বর্জনীয় সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরলেন।

পরিবেশ এমন হল যেন এটা একটা ‘এসলাহী মাজলিস’ আত্মসংশোধনী বৈঠক।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পয়েন্ট নিচে দেয়া হলো-

১) প্রত্যেকেই একথা মনে করা যে আমি নিজের কোন যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার বলে ‘ওয়ায়েজ’ হতে পারিনি। একমাত্র আল্লাহর বিশেষ নজরের কারণেই আল্লাহ আমাকে এ লাইনে কাজে লাগিয়েছেন। তাই সবসময় আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জুহ থাকা। ব্যক্তিগত জীবনে আমল বাড়িয়ে দেওয়া।

২) ওয়াজ মূলত দাওয়াহ ইলাল্লাহ’র অন্যতম মাধ্যম। যা পয়গম্বর আলাইহিমুসসালামদের কাজের একটা অংশ। সুতরাং ওয়াজ করার ক্ষেত্রে নববী সিফাতের প্রতি খেয়াল রেখে বয়ান করা।

৩) প্রত্যেকেই আত্মসংশোধনের লক্ষ্যে নিজেকে কোন আল্লাহর ওয়ালার হাতে ন্যাস্ত করে দেওয়া।

৪) এলোমেলো বয়ান না করে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বয়ান করা। শ্রোতাদের জন্য অধিক উপকারী বিষয়গুলো প্রাধান্য দেয়া। বয়ানে কোরঅান-হাদিস ও গ্রহণযোগ্য কিতাব থেকে রেফারেন্স দেয়া৷ জাল-বানোয়াট কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা। মিডিয়ায় বয়ান দেয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা। যে কোন বয়ান মিডিয়ায় না দেওয়া।

৫) ব্যক্তিগত জীবনাচার ও বয়ানে ভাবগাম্ভীর্যের প্রতি খেয়াল রাখা। মাজলিসের চাহিদা পূরণের স্বার্থে কিছু খোশগল্প করা লাগলেও মাত্রাতিরিক্ত হাস্যরস, হাসি-তামাশা না করা।

৬) হক ও হক্কানিয়্যত প্রতিষ্ঠার সূদুর প্রসারি লক্ষ্য নিয়ে সর্বোচ্চ হিকমাহ’র সাথে ময়দানে কাজ করা। বিতর্ক সৃষ্টি না করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। এমন কোন কাজ বা আচরণ না করা যাতে আমাদের মাসলাক-মাশরাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৭) ওয়ায়েজগণ পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করা। একজন আরেকজনের আয়নার মত হয়ে যাওয়া। কারো মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে মিডিয়ায় বা লোক সম্মুখে সমালোচনা না করে ব্যক্তিগতভাবে সংশোধনের চেষ্টা করা।

৮) নিজেদের মাঝে সৃষ্ট বিভিন্ন দল/উপদলগুলোকে কিভাবে এক করা যায়,ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে চেষ্টা করা।

৯) হাদিয়ার টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা।

১০) ওয়াদা দিয়ে খেলাপ না করা,প্রোগ্রাম মিস না করা।

আগামীতে ব্যাপকভাবে আরও এমন ‘মাজলিস’ হওয়ার প্রস্তাবনা শেষে দোয়ার মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত হয়।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন