নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছে ৪৩১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা

ডেইলি ইসলাম : সদ্য পেশকৃত বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য আছে বড় সুখবর। নয় বছর পর বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। এমপিওভুক্ত হবে ৩৬২টি দাখিল মাদরাসা, ১২২টি আলিম মাদরাসা, ফাজিল মাদরাসা ৩৮টি এবং ২৯টি কামিল মাদরাসা। এছাড়াও যুগের পর যুগ ধরে পাওনা বঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্কুল/দাখিল মাদ্রাসা, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ/আলিম মাদ্রাসা, স্নাতক কলেজ/ফাজিল মাদ্রাসা এবং স্নাতকোত্তর কলেজ/কামিল মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি অনুমোদন করার পাশাপাশি ৪৩১২টি ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করার সারসংক্ষেপও অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাতে বলা হয়, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা আলাদা নীতিমালা-২০১৮ ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। যদিও এমপিও নীতিমালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত নেই। তবু এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে ৩১০ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ২৮০ টাকা বছরে প্রয়োজন হবে।

৪৩১২ ইবতেদায়ি মাদরাসা নতুন করে এমপিওভুক্ত হলে এটি হবে সরকারের বড় একটি ইতিবাচক দিক। ২০১৮ সালে জারিকৃত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি মাদ্রাসায় অন্তত ৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। সে হিসেবে ৪ হাজার ৩১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় এমপিওভুক্ত হবেন ২১ হাজার ৫৬০ জন শিক্ষক।  স্বতন্ত্র ইবতেদায়ির এ  শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে বেতন পাবেন। সেই অনুযায়ী মাদরাসা প্রধানরা ১১ কোডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।

এ ছাড়া দেড় হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা এবং ২৫শ’ টাকা বৈশাখী ও ৬২৫০ টাকা উৎসব-ভাতা পাবেন। আর জুনিয়র মৌলভীরা এবং জুনিয়র সহকারি শিক্ষক পাবেন ১৬ কোডে ৯ হাজার ৩শ’ টাকা করে। এ ছাড়া মাসে বেতনের সঙ্গে দেড় হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা এবং ১৮৬০ টাকা করে বৈশাখী ও ৪৬৫০ টাকা উৎসব-ভাতা পাবেন।

১৯৮৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে সরকারি এক সিদ্ধান্তে বেসরকারি (রেজিস্টার্ড) প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। কিন্তু একই সময়ে অভিন্ন আইনের বলে প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো উপেক্ষিত থাকে। তারা মাত্র ৫০০ টাকা করে মাসোহারা পেয়ে আসছিলেন। অবশ্য ২০১০ সালের পর থেকে এই মাসোহারার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বেড়ে বর্তমানে সহকারী শিক্ষকদের ২৩০০ এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য ২৫০০ টাকায় উন্নীত হয়। বলা বাহুল্য, এই সামান্য টাকায় একজন শিক্ষকের পরিবারের যা প্রয়োজন, তার অতি অল্পই মেটানো সম্ভব। বলা চলে, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে, এটা এক বড় সুখবর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন