কাশ্মীরে আরও সেনা পাঠাচ্ছে ভারত, পাকিস্তানে সতর্কতা

কাশ্মীরে নতুন করে আবারও সেনা পাঠাচ্ছে ভারত সরকার। পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাশ্মীরে আসলে কী হচ্ছে তা বাইরে প্রকাশ করছে না ভারত সরকার। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে কাশ্মীরে আসলেই কী হচ্ছে?

কাশ্মীর নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রথমত, জাতীয় উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাশ্মীর সফর। তারপরই দিল্লির তরফে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন। আর সীমান্তের ওপারে, পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি।

এর পরপর তিনটি ঘটনার জেরে সহজেই অনুমেয় যে ভূস্বর্গ নিয়ে মোটেও চুপচাপ বসে থাকতে রাজি নয় ভারতের দ্বিতীয় মোদী সরকার। আর এরপরই শোনা যাচ্ছে, ২৮ হাজার আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে উপত্যকায়। বিমান বাহিনীকেও পাঠানো হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা। কাশ্মীরেও চলছে হাই অ্যালার্ট।

বাড়ি বাড়ি ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনারা। গোটা উপত্যকা এখন থমথমে। এর মধ্যেই নতুন করে সেনা তৎপরতা নিয়ে শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও।

এদিন এক টুইটে তিনি বলেন, ‘কী হচ্ছে এটা কাশ্মীরে? হঠাৎ কী এমন হল যে রাজ্যে সেনা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ল!’ এর পরপরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো সাধারণত জনগণের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হয় না।’ খবর ইন্ডিয়া টুডে ও পিটিআই।

শোনা যাচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তার কাশ্মীর সফরে গিয়ে অমরনাথের গুহায় এক ঘণ্টা সময় কাটিয়ে আসেন। সেখানে তিনি সেনা প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। এছাড়াও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক বৈঠক করেন অজিত দোভাল।

অনেকেই মনে করছেন, আর্টিকেল ৩৫ এ ধারা কাশ্মীরে লঘু করার প্রস্তুতিতেই চলছে এমন আয়োজন। গত ৪ দিনে কাশ্মীর দেখেছে ২৮১ কোম্পানি নতুন প্যারামিলিটারি ফোর্স।

উপত্যকায় এবার তাদের মোতায়েন করেছে কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, এ সেনা দলকে সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যে, কেন এমন আচমকা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত! কোন আশঙ্কায় এমন ঘটনা? কোন আশঙ্কায় এমন ঘটনা? সূত্রের দাবি, আচমকা প্যারামিলিটারি ফোর্স মোতায়েন করার নেপথ্যে রয়েছে সরকারের তরফে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত।

মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্র কাশ্মীর নিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে নিরাপত্তা ঘিরে। আরেকটি সূত্রে শোনা যাচ্ছে, কাশ্মীরের প্রতিটি গ্রাম, পাড়ায়, ১৫ অগাস্ট যাতে ভারতীয় পতাকার দাপট দেখা যায়, এসব আয়োজন তারই লক্ষ্যে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন