গলাব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লাগা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ এসির মধ্যে থাকলে ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা হয়। টনসিলের সমস্যাও বাড়ে। ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। সাধারণত, সর্দি-কাশির জন্য দায়ী বায়ুবাহিত জীবাণুরাই থাকে এর পিছনে। টনসিলের সংক্রমণ অনেক সময় দুই-এক দিনে ভালো হয় না। এই সংক্রমণ কমাতে ওষুধের চেয়েও বেশি প্রয়োজন যত্নের।

মুখগহ্বরে জিভের শেষের দিকে গলার দুই পাশে যে গোলাকার অংশ দেখা যায়, তা-ই টনসিল। দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো হলেও আদতে এটি টিস্যু বা কলা। মুখ-গলা, নাক, কান দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরে জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয় এই টনসিল। তাই টনসিল আক্রান্ত হলে জীবাণুর প্রকোপ বাড়ে, বাড়ে অন্যান্য অসুখের ভয়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। আসুন জেনে নিই সেগুলো কী।

লেবুর রস: চিকিৎসকদের মতে, লেবু শরীরের টক্সিন দূর করতে খুব উপকারী। তাই টনসিলে সংক্রমণ হলে বা গলায় ব্যথা হলে হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবুর রস, এক চামচ মধু ও সামান্য লবণ ভাল করে মিশিয়ে নিন। লবণ অ্যান্টি সেপটিক। তাই শরীরের অভ্যন্তরের সংক্রমণে লবণ খুব কার্যকর। এই মিশ্রণটি খেয়ে নিন। টনসিলের সমস্যায় উপকার পাবেন।

হলুদ: হলুদের জীবাণুরোধক ক্ষমতা অপরিসীম। হলুদ টিস্যুকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। তাই গলার ব্যথা কমাতে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে এর ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে এক কাপ দুধে সামান্য হলুদ মেশান। তারপর সেই দুধ ফুটিয়ে গরম গরম খান। এই হলুদ মেশানো দুধ টনসিলের সংক্রমণ বা গলা ব্যথার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।

মধু-চা: গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা হলে গ্রিন টির মধ্যে দুই চামচ মধু মিশিয়ে ফোটান। মধুর অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল উপাদানের সঙ্গে গ্রিন টির অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান মিশে টনসিলকে আরাম দেয়। ঠান্ডা লাগার সমস্যা কমাতেও এই ঘরোয়া উপায় অত্যন্ত কার্যকর।

রসুন: রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। রসুন কাঁচা খেতে পারেন। এছাড়া দই ও মধুর মধ্যে মিশিয়ে রসুন খেতে পারেন।

পুদিনা অথবা তুলসি: তুলসির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান। এক কাপ পানিতে কয়েকটি তুলসি বা পুদিনার পাতা দিন। এবার পানি ফুটান। এই পানিতে সামান্য লেবুর রস মেশান। স্বাদের জন্য এর মধ্যে সামান্য মধু মেশাতে পারেন। এই পানীয় তিন বেলা পান করুন।
এসব ঘরোয়া উপায়ে না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন