শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভ করবে হেফাজত

জসিম শফিক

৩ দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বাদ জুমা বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যায় জড়িত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিচার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান ও বাংলাদেশে ইসলামধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাশসহ ৩ দফা দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হেফাজত।

সোমবার বাদ আছর ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের বৈঠক থেকে এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, শায়খুল হাদীস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী, মুফতী জাকির হোসাইন, মাওলানা শরীফুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ ফায়সাল আহমদ, মাওলানা মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

মিয়ানমার প্রসঙ্গে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, গোটা বিশ্ব এখন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের কর্তব্য- এই অনুকূল বিশ্ব মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জোরদার কূটনীতির মাধ্যমে মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে পাঠানোর উদ্যোগ না নিয়ে এই দেশে চুপচাপ রেখে দেওয়াটা মিয়ানমার সরকার ও মুসলিমবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যকেই পুরণ করবে।

বৈঠকে নাস্তিক আসাদ নূরকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন কট্টরপন্থি ইসলাম নির্মূলবাদি নাস্তিককে গ্রেফতার করে কিছুদিন পর ছেড়ে দিয়ে সরকার দেশের ৯০% মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমানিত করেছে।

বৈঠকে গৃহীত ৩ দফা দাবি হচ্ছে-

(১) ইসলাম নির্মূলবাদী নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশ করে তা কার্যকর করতে হবে।
(২) পূর্ণ নাগরিকত্ব, নাগরিক অধিকার এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আদায় করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বাংলাদেশ সরকারের জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
(৩) রোহিঙ্গা গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ এবং জাতি উচ্ছেদ অভিযানে জড়িত মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন