মানবাধিকার সম্মাননা পেলেন এমিনি এরদোয়ান

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের স্ত্রী এমিনি এরদোয়ান মানব সেবায় অবদানের জন্য গ্লোবাল ডোনারস ফোরামের পক্ষ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে মঙ্গলবার তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বিশ্বব্যাপী মানবিক আবেদনে পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস হামলার বিষয়টি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এমিলি এরদোয়ান প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক পুরস্কার গ্রহণ করলেন। লন্ডনের ম্যানসন হাউজে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

পুরস্কার গ্রহণ শেষে বক্তব্যে এমিনি এরদোয়ান বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার তুর্কি জনগণের পক্ষ থেকে গ্রহণ করলাম। অন্য দেশগুলোর চেয়ে তুরস্ক জাতীয় আয়ের তুলনায় বেশি মানবিক সাহায্য বিশ্বব্যাপী ব্যয় করছে।’

‘বিশ্বের কোথাও যদি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে তাহলে আমরাও তাতে আক্রান্ত হই। পুঁজিবাদি বিশ্ব যা মনুষত্বকে অন্তসারশূন্য করে তুলেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকার চেষ্টা করি।’

‘বিশ্বের এখন মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মায়ানমারের মানবিক বিপর্যয় এই শতকের সবচেয়ে বড় লজ্জা। সেখানে আমি যা দেখেছি তা কখনো ভুলতে পারবো না।’

এ বছরের পুরস্কার প্রদানের বিষয় ছিল ‘সামাজিক উত্তেজনা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা’।

হত্যার হুমকি সত্ত্বেও এমিনি এরদোয়ান ২০১২ সালে মায়ানমার যান। সেসময় রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত জাতিগত হত্যার ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজার যান। তুরস্ক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রদান করেছে।

এমিনি এরদোয়ান গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এ নিবন্ধ লেখেন। তার লেখার শিরোনাম ছিল, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার বিশ্ব অস্বীকার করতে পারে না।’

এছাড়া তিনি তুরস্কের আশ্রয় নেয়া ৩৫ লাখ সিরিয়া শরণার্থীদের জন্য কাজ করেছেন। তুরস্কের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও তার অবদান রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্যেও তিনি তৎপর ছিলেন।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন