সিরিয়ায় বিমান হামলা থেকে বাঁচতে মোবাইল অ্যাপ

নৃশংস বিমান হামলা এড়াতে সিরিয়ার নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপ ‘সেন্ট্রি’ ব্যবহার করছে। এতে হতাহতের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে এসেছে।

সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচুর বিমান হামলা চালানো হয়। ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়া সরাসরি যোগ দিলে বিমান হামলার ঘটনা আগের তুলনায় প্রচুর বেড়ে যায়। ফলে হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

অ্যাপ ব্যবহারের আগে জনগণ বিমানের শব্দ শুনে সরে পড়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ে সরে পড়া সম্ভব হতো না। বিভৎস্য দৃশ্য তাদের জন্য অপেক্ষা করতো।

তবে অ্যাপ ব্যবহারের পর থেকে জানমালের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে।

এই অ্যাপটিতে কয়েকটি তথ্য দেয়ার সুযোগ থাকে। কোথায়, কখন, কী ধরণের বিমান, কোন দিকে উড়ে গেছে ইত্যাদি তথ্য।

সিরিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার বিমান ঘাঁটির কাছের কোন ব্যবহারকারী ঘাঁটি থেকে বিমান উড়তে দেখলে দ্রুত এই তথ্যগুলো অ্যাপটিতে আপলোড দেন। সাথে সাথে অন্যান্য মোবাইলে নোটিফিকেশন চলে যায়।

এরপরে কে কোথায় বিমানটিকে উড়তে দেখলো তারাও তথ্য আপলোড দিতে থাকে। তখন বোঝার সুযোগ হয় বিমান হামলা কোন এলাকার দিকে হবে।

সে এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান। বিমান চলে গেলে সেটাও অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পেরে তারা আবার স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে আসেন।

সিরিয়ার নাগরিকরা বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেয়ার স্থান নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত তারা সেখানে লুকিয়ে পড়েন।

এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন দুইজন আমেরিকান নাগরিক। জন জেইগার এবং তার ব্যবসায়ী অংশীদার ডেভ লেভিন।

সিরিয়ার সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে আমেরিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কাজে চাকরির সুবাধে জেইগার এই অ্যাপ তৈরির আগ্রহ পান।

এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে হলেও এখানে অর্থায়ন করেছে ব্রিটেন, কানাডা, নেদারল্যান্ড, আমেরিকা এবং স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তিগত দাতা।

সিরিয়ায় বিমান হামলা ও বিভিন্ন পক্ষের সম্মুখ যুদ্ধের পর হতাহতদের উদ্ধার করতে ‘হোয়াইট হেলমেট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে।

হোয়াইট হেলমেটের স্বেচ্ছাসেবক ধ্বংসস্তুপ থেকে শিশুদের উদ্ধার করে আনছেন
সংগঠনটি এখন এই ‘সেন্ট্রি’ অ্যাপ ব্যবহার করে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে থাকে।

সিরিয়া যুদ্ধের বিভিষিকা থেকে বাঁচতে বেসামরিক নাগরিকদের বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। যেমন, খাবার সংগ্রহে রাখা, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গর্ত খুড়ে রাখা, রাসায়নিক হামলা থেকে বাঁচতে গ্যাস মাস্ক ঘরে রাখা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ সিরিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ। দেশ ছেড়েছেন ১ কোটিরও বেশি নাগরিক। যুদ্ধের বিভিষিকা এখনো চলছে।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন