মসলিনের ঐতিহ্য ফেরাতে গবেষণা হবে ১৩ জেলায়

বিলুপ্ত মসলিন কাপড়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ১৩ জেলায় নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে মসলিনের সুতা ও কাপড়ও তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার আলোকে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। এর আওতায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী ও যশোর- এই ১৩ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রকল্পের আওতায় মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিন তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় উপমহাদেশ পেরিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় এককালে সুনাম ছিল বাংলাদেশের মসলিনের। ইংরেজ শাসনে নীল চাষের বেদনার যাঁতাকলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে মসলিনের নাম। সময়ের ব্যবধানে দেশের অর্থনীতির পুনর্জাগরণ হচ্ছে। এ অবস্থায় মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে সম্প্রতি মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মসলিন বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য আর অভিজাত্যের প্রতীক ছিল। মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা, গ্রিক পর্যটক পিনটনি, টেইলর, ড. উরে প্রমুখ তাদের লেখায় বাংলার সুতি বস্ত্র মসলিনের বর্ণনা দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের সুতি বস্ত্রের মধ্যে ঢাকাই মসলিনের সুখ্যাতি ছিল বিশ্বব্যাপী। প্রাচীন কালে মসলিন প্রস্তুত শুরু হলেও ঢাকাই মসলিন প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল আমলে। ওই সময় পণ্যটি দেশ-বিদেশে প্রায় একচেটিয়া বাজার দখল করে। ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত জেমস টেলরের ‘টপোগ্রাফি অব ঢাকা’ গ্রন্থেও ঢাকাই মসলিন রপ্তানির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সতের শতকের প্রথম দিকে পর্তুগীজরা মসলিনের ব্যবসায় যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ওলন্দাজ ও ফরাসি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে মসলিন রফতানি শুরু করে। ইংরেজ কোম্পানি আমলে মসলিন শিল্পের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে দেশের গর্ব এই ঐতিহ্যবাহী মসলিন বিলুপ্ত হয়ে যায়।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন