সংসদে পাস হলো কওমি সনদ বিল

জসিম শফিক: ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ বিল সংসদে পাস হলো।

আজ বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন ‘কওমি মাদরাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল আনা হয়েছে।’

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী  বলেন,  ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করে অাসছে। ১৫ লক্ষ শিক্ষার্থী এ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে, এটিকে একটি ঐতিহাসিক বিল উল্লেখ করে সাংসদ ফখরুল ইমাম বলেন, ‘অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো কওমি মাদরাসা।’ এই বিশাল অবহেলিত জনগোষ্ঠী কওমি মাদরাসার কল্যাণে আজ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’ তবে তিনি আবারো বিলটি যাচাই করার জন্য অনুরোধ জানান।

সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন,  ন্যায় ও ইনসাফের কষ্টি পাথরে যাচাই হলে আমরা দেখতে পাই, প্রতিটি কওমী মাদরাসা দ্বীন ও ইসলামের এক একটি উজ্জল প্রদীপ। স্বাধীনতার স্বপক্ষের সৈনিক তৈরির এক একটি প্রতিষ্ঠান এবং সুনাগরিক সৃষ্টির এক  ঝর্ণাধারা। বিলটির সাথে একমত পোষন করে তিনি বলেন, এটি পাশ হলে ধর্মীয় শিক্ষার হার বেড়ে যাবে।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আইনে সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। হয়তো দেওবন্দের কারিকুলাম অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এটি করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষায় মাস্টার্সের কারিকুলামের একটি কমা পরিবর্তন করতেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন লাগে। হয়তো বাস্তবতার কারণেই ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া হয়েছে।’ ভবিষ্যতে যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে সাধুবাদও জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে হেফাজতে ইসলামের আমির ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ প্রায় ৩০০ জন আলেমের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবির সমমান ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেটে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি ও হেফাজতের আমির আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে ৩২ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয় ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ নামে নতুন সংস্থা। এ সংস্থার অধীনে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দেশের মাদরাসাগুলোয় দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন