ট্রাম্প না দিলেও ফিলিস্তিনিদের অর্থ দিবে আমেরিকার জনগণ

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অর্থ সহায়তা দিতে তহবিল গঠনে এবার রাস্তায় নেমেছে আমেরিকার জনগণ।

শরণার্থীদের জন্য ফান্ড গঠনে ব্যক্তিগত ভাবে অর্থ দিচ্ছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ।

প্রচারণার জন্য ইউএরআরডব্লিউএ সংস্থার উদ্যোগে আমেরিকায় ২০১২ সাল থেকে ৫ কিমি হাঁটা বা দৌড়ানোর প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক মানবাধিকার সংগঠন ইউএরআরডব্লিউএ।

আমেরিকা এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থ এই সংস্থাকে প্রদান করতো। বছরে যার পরিমাণ ছিল গড়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার। গেল বছর প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।

কিন্তু সম্প্রতি সংস্থাটির কার্যক্রম ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা সরকার সমুদয় অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়।

আমেরিকার হঠাৎ মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান বন্ধ করায় ঘাটতি পূরণে অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসার পরেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। অবশেষে রাস্তায় নেমে এসেছে স্বয়ং মার্কিন জনগণ।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৫ মিলিয়ন ডলার আমেরিকার জনগণের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের দানের অর্থ থেকে সংগ্রহ হবে বলে আশা করছে ইউএরআরডব্লিউএ।

সংস্থাটি বলছে, এই পরিমাণ অর্থ ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু এটা ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর একটা নজির বা উদাহরণ, যা মানুষের কাছে সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ভূখন্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি আশপাশের আরব রাষ্ট্রগুলোতে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নেয়।

গত ৭০ বছরেও তারা আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। পরবর্তী প্রজন্মের আগমনে এখন প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি নিজ ভূমি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছেন।

১৯৪৮ সাল থেকেই এই শরণার্থীদের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে ইউএনআরডব্লিউএ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ফিলিস্তিনি সরকারকে প্রদেয় আমেরিকার অর্থ সহায়তাও বন্ধ করে দেন। এছাড়া গাজায় প্রায় ৬টি হাসপাতাল পরিচালনার অর্থও দিতো আমেরিকা। সেটাও বন্ধ করে দেন।

ফিলিস্তিনিদের প্রদেয় অর্থ সহায়তা একের পর এক বন্ধ করে দিলেও ইসরাইলে আমেরিকার অর্থ সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জেএস/

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন