দেড় মাসে ১ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প পাস

চলতি অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ষষ্ঠ সভা হয় গত মাসের ১১ তারিখ। আর গতকাল হলো ১১তম সভা। মধ্যবর্তী ৬ সভায় ১০৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। নির্বাচনের আগে নেয়া এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এখনো ৩৫টির বেশি প্রকল্প আছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গতকাল মোট ২১টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নে ৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ও বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রামে ১৩০ কোটি টাকা। এছাড়া ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩২১ কোটি ২২ লাখ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৯০ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন পেয়েছে।

এর আগে অর্থবছরের দশম একনেক সভায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে রয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকায় যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১৭২ কোটি টাকায় পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প। এছাড়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদরের যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্প অনুমোদন পায়।

নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশের সেবা করার প্রয়োজনে নির্বাচনের এ সময়ে যদি প্রতিদিন প্রকল্প অনুমোদন দিতে হয়, তবে সেটিই করা হবে। নির্বাচনের সময় বেসরকারি খাত বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকে। সেটি পূরণ করতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২০ থেকে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় রাখতে অবশ্যই সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন যেন সরকারি বিনিয়োগের অভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি দেখা হচ্ছে।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একনেকের নবম সভায় অনুমোদন পায় ২০ প্রকল্প। যেগুলোর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩২ হাজার ৫২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প (আরসিআইপি), ২৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স (এলইডি অংশ) প্রকল্প, ৩৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ অন্যান্য খালের উভয় তীর রক্ষা প্রকল্প, ১৬৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়া ও সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প ও ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সেনা উপস্থাপনার ভূমি সমতল উঁচুকরণ, ওয়েভ প্রটেকশন ও তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

এর আগে একনেকের অষ্টম সভায় ১৫ প্রকল্পে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন হয়। এর মধ্যে রয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা; টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পে ১ হাজার ৫০২ কোটি ৭২ লাখ ও রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আরওএসসি) দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া সৌরশক্তি ব্যবহারে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়নে ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ভোলা সদরের রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন রক্ষার্থে তীর সংরক্ষণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৪৩ কোটি ৯০ লাখ এবং চট্টগ্রামে হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন হয়।

এ ধরনের প্রকল্প নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কিনা জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের নিয়মিত দায়িত্ব ও কর্তব্য দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করা। দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে সেসব দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে যাচ্ছি। প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনী আইন মেনে চলার পাশাপাশি প্রকল্প অনুমোদনে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সব যাচাই-বাছাই করা হয়।

জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর একনেকের সপ্তম সভায় দেড় লাখ ইভিএম কেনাসহ ১৪টি প্রকল্পে ১২ হাজার ৫৫৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ একনেক সভায় ১৮ প্রকল্পে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব পাস হয়। এর মধ্যে ছিল প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় এমপির তালিকা অনুযায়ী ছয়টি ও বিশেষ বিবেচনায় আরো ২০০টিসহ সারা দেশে দুই হাজার মাদ্রাসা উন্নয়নে ৫ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ ও আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া জামালপুর জেলার আট পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ৬১২ কোটি ৮৬ লাখ, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ ও রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ প্রকল্পে ৪ হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয় ওই সভায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন