হজের ফরজ ওয়াজিব সুন্নত

হজের ফরজসমূহ

হজের ফরজ তিনটি-এক. ইহরাম বাঁধা। (সুনানে কুবরা : ৯১৯০)

দুই. জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে ঈদুল আজহার দিন সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। এ সময়ের মধ্যে অতি অল্প সময়ও আরাফার ময়দানে অবস্থান করলে হজের ফরজ আদায় হয়ে যাবে। (তিরমিজি : ৮১৪)

তিন. আরাফায় অবস্থানের পর কাবা শরিফে সাত চক্কর লাগানো, যাকে তাওয়াফে জিয়ারত বা তাওয়াফে এফাজা বলা হয়।

হজের ওয়াজিবসমূহ

সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুজদালিফায় অবস্থান করা। এর সময় হলো জিলহজের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। (সুরা বাকারা : ১৯৮, তিরমিজি : ৮১৫)

* সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর লাগানো, যাকে সাঈ বলা হয়। চক্কর লাগানো শুরু হবে সাফা থেকে আর শেষ হবে মারওয়ায়। (দারা কুতনি : ২৬১৫, মুসলিম : ২১৩৭)

* যথা সময়ে রমি করা। (শয়তানকে পাথর মারা) (মুসলিম : ২২৮৬)

* তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের দমে শোকর তথা হজের কোরবানি করা।

* হারামে কোরবানির দিনসমূহে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা। (মুসলিম : ২২৯৮, বুখারি : ১৬১৩)

* মক্কাবাসী  ছাড়া অন্যরা তাওয়াফে সদর তথা তাওয়াফে ‘বিদা’ করা। (মুসলিম : ২৩৫০)

হজের সুন্নাতসমূহ

ইহরাম বাঁধার সময় গোসল বা অজু করা এবং শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা।

* নতুন বা পরিষ্কার চাদর পরা। সাদা হওয়া উত্তম।

* ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। (মুসলিম : ২০৩১)

* বেশি বেশি তালবিয়া পড়া। (মুসলিম : ২২৪৬)

* মক্কাবাসী ছাড়া অন্যরা হজে ইফরাদ বা কিরান করাকালীন তাওয়াফে কুদুম করা। (মুসলিম : ২১৩৯)

* মক্কায় থাকাকালীন বেশি বেশি তাওয়াফ করা। (তিরমিজি : ৭৯৪)

* ‘ইজতিবা’ করা। অর্থাৎ তাওয়াফ শুরু করার আগে চাদরের এক দিককে নিজের ডান বাহুর নিচে রাখা এবং অন্য দিককে বাঁ কাঁধের ওপর পেঁচিয়ে দেওয়া। (তিরমিজি : ৭৮৭)

* তাওয়াফের সময় ‘রমল’ করা। রমলের পদ্ধতি হলো তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করের সময় ঘন ঘন কদম ফেলা এবং উভয় কাঁধ হেলাতে হেলাতে চলা। (বুখারি : ১৫০১)। (উল্লেখ্য, ‘রমল’ ও ‘ইজতিবা’ ওই তাওয়াফে সুন্নাত, যে তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়)।

* তাওয়াফের প্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া। (চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করে হাতে চুমু দেওয়া)। (বুখারি : ১৫০৬, ১৫০৭)

* কোরবানির দিনসমূহে মিনায় রাত যাপন করা। (আবু দাউদ : ১৬৮৩)

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস বা এরূপ কাজে আকৃষ্টকারী কোনো কাজ না করা। (সুরা বাকারাহ : ১৯৮, রূহুল মাআনী : ২/১৬৪)

* কোনো প্রকার হারাম কাজ না করা। (প্রাগুক্ত) হ গালমন্দ ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকা। (প্রাগুক্ত)

* সুগন্ধি ব্যবহার না করা। যেমন-আতর, গোলাপ, জাফরান ইত্যাদি।

* পুরুষরা সেলাইকৃত বস্ত্র না পরা। যেমন-কোর্তা, পায়জামা, পাঞ্জাবি, জুব্বা, মোজা ইত্যাদি। সেরূপ মাথা বা মুখ ঢেকে রাখার কাপড়চোপড়। (প্রাগুক্ত)

* নখ, মাথার চুল, দাড়ি এবং নাভির নিচের কেশ ইত্যাদি কর্তন না করা। (সুরা বাকারাহ : ১৯৬, আলফিকহুল ইসলামী ৩/৬০৩)

* চুল বা (কেশ) শরীরের কোনো অঙ্গে ঘ্রাণযুক্ত তেল না লাগানো। (বুখারি : ৪৯১৮, বাদায়ে ৫/১৩০)

* হুদুদে হারামে গাছ বা ঘাস ইত্যাদি কর্তন না করা। হুদুদে হারামে এই কাজ সর্বাবস্থায় হারাম। (বুখারি : ১৪৮৪)

* স্থলের কোনো বন্য প্রাণী শিকার না করা। উক্ত প্রাণী খাওয়া জায়েজ হোক বা নাজায়েজ। (বাকারাহ : ১৯৭, মায়েদা : ৯৬)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন