হজের সফরের সুন্নত

►  সফরের উদ্দেশ্য প্রথমে ঠিক করে নেবে। যদি হজ ও ওমরাহর নিয়ত হয়, তাহলে ইখলাসের সঙ্গে নিয়ত করবে।

আর হালাল উপার্জন দিয়ে হজ ও ওমরাহ করবে।

►  ওমরাহ ও নফল হজ করতে চাইলে সন্তানকে মা-বাবার ও স্ত্রীকে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।

►  বৃহস্পতিবার সফরের জন্য বের হওয়া সুন্নত।

►  সফরে যাওয়ার সময় কারো হক (দেনা-পাওনা) থাকলে তার ব্যাপারে অসিয়ত করে যেতে হবে।

►  সফর শুরু করার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়বে।

►  সফর শুরু করার সময় পরিবার, পীর-মাশায়েখ ও বন্ধুবান্ধবদের বিদায় জানাবে। মুসাফির (হজে ভ্রমণকারী) তাদের বলবে—‘আসতাউদিউ কুমুল্লাহাল লাজি লা তুদায়ইউ ওয়াদাইউহু। ’ অর্থাৎ তোমাদের আল্লাহর আমানতে ছেড়ে দিলাম, যার আমানত ধ্বংস হয় না। আর বিদায় জানানো ব্যক্তিরা বলবে—‘আসতাউদিউল্লাহা দ্বীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খওয়াতিমা আ’মালিকা।

’ অর্থাৎ আল্লাহর কাছে আপনার দ্বীন, আমানত ও শেষ আমল আমানত করে দিলাম। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৮২৬)

►  যখন সফরের জন্য যানবাহনে উঠবে, তখন বিসমিল্লাহ বলে ডান পা দিয়ে উঠবে এবং তিনবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়বে। এরপর এই দোয়া পড়বে—‘সুবহানাল লাজি সাখ্খারা লানা হাজা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লা মুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজাল বিররা ওয়াত তাকওয়া ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা, আল্লাহুম্মা হাউইন আলাইনা সাফারানা হাজা ওয়াতবি আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সফরি ওয়াল খলিফাতু ফিল আহলি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন ওয়াসাইচ সফরি ওয়া কা’বাতিল মানজারি ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি। ’ অর্থাৎ পবিত্রতা সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদের জন্য তা সহজ করেন আর আমরা তা করতে অক্ষম আর আমরা আল্লাহর দিকে ফিরব। হে আল্লাহ! আমরা এই সফরে কল্যাণ ও তাকওয়ার আবেদন করি, আপনার সন্তুষ্টির মতো আমল চাই। হে আল্লাহ! আমাদের ওপর এই সফর সহজ করুন আর আমাদের থেকে (সফরের) দূরত্ব ঘুচিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরের বন্ধু আর পরিবারের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সফরের ভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই ও খারাপ দৃষ্ট থেকে আশ্রয় চাই আর সম্পদ ও পরিবারের অশুভ কল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।

►  যখন সফর শেষ করে বাড়িতে আসবে, তখনো এ দোয়া পড়বে। তারপর এ দোয়া পড়বে—‘আ-ইবুনা তাইবুনা আবিদুনা লি রাব্বিনা হামিদুনা। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩৪২)

►  যখন কোনো উঁচু স্থানে উঠবে, তখন ‘আল্লাহু আকবার’ পড়বে আর যখন নিচে নামবে, তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়বে।

►  মক্কা বা মদিনায় কারো আচরণ ভালো না লাগলে ঢালাওভাবে মক্কাবাসী বা মদিনাবাসীকে দোষারোপ করবে না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) আরব, মক্কা ও মদিনার অধিবাসী ছিলেন। তাই তাদের ভালোবাসা ঈমানের অংশ।

►  মক্কা ও মদিনায় ভালো কাজের যেমন অধিক পুণ্য রয়েছে, তেমনি পাপকাজ করলেও অধিক পাপ রয়েছে।

►  সফরে দলবদ্ধভাবে থাকা উচিত। একা হওয়া অনুচিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন