শুকরানা মাহফিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন, রাতেই ঢাকা আসছেন আল্লামা শফী

কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাল রোববার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুকরানা মাহফিল।
এ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শুকরানা মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটি। শনিবার রাতেই ঢাকা আসছেন হাইআতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি ফরিদাবাদ মাদরাসায় অবস্থান করবেন।

বোরবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হবে শুকরানা মাহফিল। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা আহমদ শফী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশে প্রবেশের জন্য ৬ টি গেট থাকবে। এর মধ্যে ২ টিতে ভিআইপি অতিথিগণ প্রবেশন করবেন এবং বাকি ৪ টি দিয়ে অন্যরা প্রবেশ করবেন।

ফজরের পর থেকেই মাঠে প্রবেশ করা যাবে বলে জানা গেছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের সাথে ছাতা, পানির বোতলসহ কোনো দাহ্য পদার্থ থাকতে পারবে না। মাঠে অজু ও পানি পানের ব্যবস্থা থাকবে।

জানা গেছে, মাহফিলে লক্ষাধিক লোকের সমাগম করতে চায় হাইআতুল উলইয়া। আর এ জন্য সবরকম আয়োজন সম্পন্ন করেছে কওমি মাদরাসার বোর্ডটি। দেশের প্রতিটি জেলা ও থানা থেকে একাধিক বাস রিজার্ভ করে আসবেন ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা।

মাদরাসাগুলোকে নিজ খরচেই ঢাকায় আসতে হবে। আর যারা রাতেই ঢাকায় চলে আসবে তাদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বড় মাদরাসাগুলোতে তারা রাত্রিযাপন করবেন এবং সেখানে তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।

সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের মঞ্চে ৫০ জনের মতো অতিথি থাকবেন। বেফাকসহ ৬ বোর্ডের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ৫ হাজার ভিআইপি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে নেতৃস্থানীয় আলেম ও সরকারি অতিথিগণ বসবেন।

অনুষ্ঠানে কে কে বক্তব্য রাখবেন তার তালিকাও করা হয়েছে শুক্রবারের বৈঠকে। নেতৃবৃন্দ কওমি মাদরাসা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি স্বীকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করবেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হবে না বলেও জানা গেছে।

এছাড়া অনুষ্ঠান থেকে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে কাফের ঘোষণা ও ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান আইন পাস হয়। এ উপলক্ষ্যে হাইআতুল উলইয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বীকৃতি আদায়ে অনন্য অবদান রাখায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন