বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব ইজতেমা সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

গত ৭ জানুয়ারি ২০১৮ বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতকে একটি চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব ইজতেমা সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল মালয়েশিয়া তাবলিগের সাদপন্থী লোকেরা। চিঠিতে আরো লেখা ছিল—গাজীপুরের টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদকে ইজতেমার আমিরে ফয়সাল (সিদ্ধান্ত প্রদানকারী) পদ থেকে সরানো হলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তখন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তাঁদের এই হুমকি আমলে নেননি। অনেক দিন থেকেই সাদপন্থীরা এ কথা প্রচার করে আসছে যে সাদ সাহেব না এলে ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে। কিন্তু ২০১৭ সালের ইজতেমা সাদ সাহেব ছাড়াই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বর ‘বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত’ শিরোনামে গণমাধ্যমের একটি খবর দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তখন থেকে এ নিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা। পরে গত ১৬ নভেম্বর শুক্রবার দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসির) পরামর্শক্রমে পরে তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

গত ১ ডিসেম্বর শনিবার বাংলাদেশে নেমে আসে সাদপন্থীদের ‘ব্ল্যাক সাটারডে’ তাণ্ডব। টঙ্গীর বরকতময় ইজতেমার ময়দানে শুরু হয় কৃত্রিম পাথুরে বৃষ্টি। এই বৃষ্টি থেকে রেহাই পাননি প্রাণ বাঁচাতে তুরাগে ঝাঁপ দেওয়া ছাত্র ও মুসল্লিরাও। ইজতেমার ময়দানে চির আপন তাবলিগি সঙ্গীদের সংঘর্ষে জড়াতে দেখে হতবাক হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ বাংলাদেশে আর কখনো বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কি না? আগের মতো বিশ্বের আনাচ-কানাচ থেকে মুসল্লিরা নির্ভয়ে আসতে পারবেন কি? সর্বস্তরের মানুষের মধ্যেই এখন এ ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, বাংলাদেশ থেকে কখনো ইজতেমা চলে যাবে না। কেননা এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের অংশ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নাম। এ নাম কেউ মুছে দিতে পারবে না। বরং বর্তমানে অনেক দেশ বাংলাদেশের আদলে ইজতেমা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। গেল নভেম্বর পাকিস্তানে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হয়েছে। সেখানে প্রায় ৮৪টি দেশ থেকে মুসল্লিরা এসেছেন।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুরে নান্নুর টোল প্লাজার পাশেই চলছে ‘আলমি তাবলিগি ইজতেমা ২০১৮’ (বিশ্ব তাবলিগের ইজতেমা ২০১৮)-এর প্রস্তুতি। ইটিভি উর্দুর তথ্য মতে, ভারতের কুরনুরের নান্নুরে আগামী ৮, ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ বেশ বড় করে ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। (সূত্র : https://youtu.be/DSG48edtOEA) ইজতেমা উপলক্ষে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে সে দেশের সরকার। (সূত্র : https://youtu.be/Kz31PBim3kg)

আসলে ভারত-পাকিস্তানসহ বহু দেশ এ বিষয়ে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে চায়।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও তাবলিগের সাথিরা চলমান সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবেন। তাঁরা দ্রুত সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে নেবেন। এবং অতীতের মতো আগামী দিনেও বিশ্বের সর্ববৃহৎ তাবলিগি ইজতেমা বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন