ইকবালের ঈগল

রোকন ইনআম লোবান

گزر اوقات کر ليتا ہے يہ کوہ و بياباں ميں
کہ شاہيں کے ليے ذلت ہے کار آشياں بندی

তাঁরা অরণ্য ও মরুভূমিতে সময়যাপন করে_
কেননা, ঘর বানানো ঈগলের সাজে না।

The hawk lives out his days in rocks and desert,
Tame nest‐twig‐carrying his proud claws forswear.

ইকবালের কবিতার বিশেষ বিশেষণ এই শাহীন। শাহিন ঈগল পাখিকে বলে। সবচেয়ে সাহসী, দ্রুতগামী ও রাজকীয় পাখি ঈগল। ইকবাল ঈগল শব্দালংকারে প্রতুল লিখেছেন। তাঁর কবিতার মৌলিক সিগনেচারের অন্যতম হল_ শাহীন।

মৌলিক কবিদের মৌল শব্দ, সৃষ্টি ও উপমা থাকে। ইকবালের এরকম আরো কিছু অলংকৃত দৃষ্টান্তের প্রয়োগ আছে। তবে, খুদি ও শাহীন ইকবালের মৌলিকতাকে আলোকিত করে বেশি।

ইকবাল এই কবিতায় কী বুঝাচ্ছেন? সরল ভাষায় বললে, শাহীন তথা মার্লিনের মতো তেজস্বী ও ওজস্বী যাঁদের জীবনপথ ও দর্শনমত, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় বিষয় ও ভূষণ হতে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।

যাঁর জীবনের লক্ষ্য ও উপলক্ষ্য খোদাইকরা ও নিশানা করা, তাঁর বিলাসবসন ও শৌখিনরতনে বুঁদ হওয়ার সুযোগ নেই। উদ্দেশ্য ও উদ্যোগে জীবন কুরবানী করাই তাঁর অভিভূষণ হওয়া কাঙ্খিত।

মৌলিক দর্শনের বাইরে উটকো জড়িয়ে পড়লে, জীবনের মনজিলে মকসুদ হাতছাড়া হয়ে যায়। আর আদর্শবাদী চিন্তকের জন্যে অপ্রয়োজন ও অপচয় সুখভোগ ও সম্ভোগ অসুন্দর।

ঘরবাড়ি তো প্রাণীর মৌলিক প্রয়োজন। ঈগল সেই নীড়পাতাকেও তার জীবনশৈলীর জন্য অসুন্দর মেনেছে।

তাহলে, যাদের জীবনে ভোগের বাইরে আরো তাৎপর্যময় স্বপ্ন ও স্বপ্নের রূপায়ন আছে, তাঁদের ঘরদোয়ার ও খাওয়া-শোয়ার সুখে মত্ত হওয়া বেমানান। এই সত্য ছোট্ট পংক্তিতে ঝংকৃত করেছেন কবি। কবির নিজেরও কোন ঘর ছিল না। ভাড়া বাসায় জীবনধারণ করেছেন। একটি বাড়ির কাজ ধরেছিলেন, তাও নিজের নামে নয়, জাভেদ ইকবালের নামে।

আমরা যদি ঈগলের জীবন চাই, তাহলে, অপ্রয়োজনীয় বন্ধন ছিঁড়ে খোলা আাকাশে ডানা ঝাপটাতে হবে। পিছুটান ও মায়াবাণ ভুলে উদ্দেশ্যপুরে অভিযাত্রা শুরু করতে হবে।
নাহয়, কাকের জীবন ও পিপীলিকার জীবন অাজীবন বইতে হবে।

লেখক : কবি ও গবেষক

মত-দ্বিমত বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন : joshimbbl@gmail.com

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন