হাটহাজারীর ছাত্র আকবর হত্যার রহস্য উদঘাটন, সহপাঠীসহ গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের ছাত্র আকবর হত্যার রহস্য অবশেষে উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করেছে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সহপাঠী মাহমুদ ও ইকবালকে।

আকবরের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখানি থানার চরসুরভী গ্রামে। গত মাসের ১৮ তারিখ থেকে তিনি মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। ১৮ তারিখের পর থেকে আত্মীয়-স্বজন কিংবা মাদরাসার কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না। পরিবার তাঁকে কয়েক দিন ধরে পেরেশান হয়ে খুঁজতে থাকে। অবশেষে ২৩ তারিখ বি-বাড়িয়া সদরের মালিহাটা এলাকার একটি ডোবা থেকে আকবরের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। খবর পেয়ে আকবরের পরিবার ২৮ তারিখ আইডেন্টিফাই করে পুলিশের কাছ থেকে লাশ গ্রহণ করেন। পুলিশ তারপর থেকে শুরু করে তদন্ত।

আকবরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহপাঠী হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র মাহমুদও নিখোঁজ হয়েছিল। আকবরের লাশ পাওয়া গেলেও মাহমুদকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ মাহমুদকে সন্দেহ করে এবং তাঁকে খুঁজতে থাকে।

কললিস্টের সূত্র ধরে অবশেষে গত রোববার রাতে বি-বাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকা থেকে মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাহমুদের দেওয়া তথ্যমতে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার আরেক বন্ধু ইকবালকে বি-বাড়িয়া সদরের ছাতিয়ান গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন বি-বাড়িয়া সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন।

গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ৩০ হাজার টাকার কারণে গত ২১ নভেম্বর মাথায় আঘাত করে গলা কেটে হত্যা করা হয় আকবরকে।

জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী মাহমুদ জানিয়েছ, আকবর তার কাছে ৩০ হাজার টাকা পেত। পাওনা টাকার জের ধরে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আকবরের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। এবং কৌশলে তাঁকে মাদরাসা থেকে বের করে সফরের কথা বলে বি-বাড়িয়ায় নিয়ে আসে। তারপর বি-বাড়িয়ার বাসিন্দা তার আরেক বন্ধু ইকবালের মাধ্যমে আকবরকে খুন করিয়েছে সে। ইকবালের বাড়ি বি-বাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার ছাতিয়ান নামক গ্রামে। আর মাহমুদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি উপজেলার খাসকাউলিয়া গ্রামে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
দয়া করে আপনার নাম লিখুন